পোস্টগুলি

ভারতের আত্মা অন্বেষণ (The Discovery of India)

ছবি
নমস্কার, সময়টা ১৯৪২ সাল। চারদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা। আর ভারতের বুকে জ্বলছে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের আগুন। ব্রিটিশ সরকার একে একে বন্দি করছে ভারতের জাতীয় নেতাদের। এমনই এক ঝড়ো মুহূর্তে, মহারাষ্ট্রের আহমাদনগর দুর্গ কারাগারে বন্দি করা হলো এক ব্যক্তিকে। টানা তিন বছর তিনি বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন। বন্দিদশার সেই নিঃসঙ্গ দিনগুলোতে যখন চারদিকের দেয়াল মানুষকে দমিয়ে রাখতে চায় তখন সেই ব্যক্তিটি আশ্রয় নিলেন কলম আর কালির। তিনি আর কেউ নন স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। আর সেই অন্ধকার কুঠুরিতে বসে তিনি রচনা করলেন এমন এক মহাকাব্যিক গ্রন্থ যা কেবল একটি দেশের ইতিহাস নয়, বরং একটি সভ্যতার আত্মআবিষ্কারের দলিল। বইটির নাম—'দ্য ডিসকভারি অব ইন্ডিয়া' (The Discovery of India) বা 'ভারতের খোঁজ'। আজকের ব্লগে আমরা নেহরুর চোখ দিয়ে দেখবো আমাদের এই ভারতবর্ষকে। জানবো কেন আজকেও এই আধুনিক যুগে দাঁড়িয়ে এই বইটি পড়া আমাদের প্রত্যেকের জন্য জরুরি। বইটির শুরুতে নেহরু কোনো ঐতিহাসিকের মতো শুকনো তথ্য দিয়ে শুরু করেননি। তিনি শুরু করেছেন একজন দার্শনিকের মতো একজন প্রেমিকের ম...

কঙ্গালী বিহু ভক্তি, সংযম এবং আশার আলো।

ছবি
নমস্কার। অসমের সংস্কৃতি মানেই ত্রিবেনী সংগম— বোহাগ, মাঘ আর কাতি। যখনই আমরা 'বিহু' শব্দটা শুনি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে ঢোলের আওয়াজ, পেঁপার সুর আর নাচ-গানের এক রঙিন উৎসব। কিন্তু এই তিন বিহুর মধ্যে এমন একটি বিহু আছে যেখানে কোনো ঢোলের আওয়াজ নেই নেই কোনো নাচ-গান। সেখানে আছে শুধু এক বুক আশা মাটির প্রদীপের শান্ত আলো আর এক অদ্ভুত আধ্যাত্মিক নীরবতা। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি কাতি বিহু বা কঙ্গালী বিহু সম্পর্কে। আস্বিন এবং কার্তিক মাসের সংক্রান্তিতে অর্থাৎ সাধারণত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়। আজ আমরা এই ব্লগের গভীরে গিয়ে জানবো, কেন এই বিহু অসমীয়া সংস্কৃতির অন্যতম প্রাণস্পন্দন কেন একে 'কঙ্গালী' বলা হয় এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল তাৎপর্য কী। অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে 'কঙ্গালী' শব্দের অর্থ তো দরিদ্র বা অভাবগ্রস্ত। তাহলে একটা উৎসবের নাম কেন এমন হলো? এর পেছনে রয়েছে অসমের কৃষিভিত্তিক জীবনযাত্রার এক বাস্তব চিত্র। এই সময়ে (আশ্বিন-কার্তিক মাসে) কৃষকদের খেতের ধান কেবল পাকতে শুরু করে কিন্তু তা কাটার উপযোগী হয় না। অন্যদিকে, আগের বছরের জমানো ধান বা চালের ভাণ্...

ফারাক্কা বাঁধ প্রজেক্ট ইতিহাস, উদ্দেশ্য এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব।

ছবি
নমস্কার। আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন। নদী—মানব সভ্যতার জীবনরেখা। কিন্তু যখন এই নদী একাধিক দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, তখন তা কেবল প্রকৃতির অংশ থাকে না তা হয়ে ওঠে রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতির এক জটিল সমীকরণ। আজ আমরা এমন একটি নদী প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং প্রজেক্ট নিয়ে কথা বলব, যা গত কয়েক দশক ধরে দক্ষিণ এশিয়ার, বিশেষ করে ভারত এবং বাংলাদেশের রাজনীতি ও পরিবেশের অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি ফারাক্কা বাঁধ প্রজেক্ট সম্পর্কে। পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত এই বাঁধটি কেন তৈরি করা হয়েছিল? এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী ছিল? আর এটি নির্মাণের পর গত ৫০ বছরে এর কী কী প্রভাব পড়েছে? আজ আমরা কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব ছাড়া, সম্পূর্ণ তথ্য ও ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে এই পুরো বিষয়টি সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করব। ফারাক্কা বাঁধের গল্পটা বুঝতে হলে আমাদের একটু পেছনে, অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ফিরে যেতে হবে। ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ প্রকৌশলীরা লক্ষ্য করেন যে গঙ্গা নদীর মূল স্রোতটি ধীরে ধীরে তার দিক পরিবর্তন করছে। গঙ্গার প্রধান ধারাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে হ...

থুম্বা রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের অবিশ্বাস্য ইতিহাস।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা, আজ আমরা এমন এক রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প শুনবো যা শুরু হয়েছিল একটি ছোট মাছ ধরার গ্রাম থেকে আর আজ তা পৌঁছে গেছে চাঁদের দক্ষিণ মেরু এবং মঙ্গলের কক্ষপথে। হ্যাঁ, আমি ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা 'ইসরো'-র সাফল্যের কথা বলছি। কিন্তু আপনারা কি জানেন ভারতের এই মহাজাগতিক স্বপ্নের ভিত কোথায় এবং কীভাবে পোতা হয়েছিল? আজ থেকে প্রায় ৬০ বছর আগে কেরালার তিরুবনন্তপুরমের কাছে 'থুম্বা' নামের এক ছোট্ট নিভৃত গ্রামে ভারতের প্রথম রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র গড়ে ওঠে। যার পোশাকি নাম— "থুম্বা ইকুয়েটোরিয়াল রকেট লঞ্চিং স্টেশন" বা সংক্ষেপে TERLS । কোনো অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি নয় একটা সেন্ট মেরি ম্যাগডালিন চার্চের ভেতরে বসে বিজ্ঞানীরা টেবিল-চেয়ার পেতে কাজ শুরু করেছিলেন। রকেটের অংশ আনা হতো সাইকেলে আর গরুর গাড়িতে করে । আজকের ব্লগে আমরা থুম্বা রকেট উৎক্ষেপণ প্রজেক্টের সেই অবিশ্বাস্য ইতিহাস বিজ্ঞানীদের ত্যাগ এবং ভারতের মহাকাশ গবেষণার আঁতুড়ঘরের সম্পূর্ণ কাহিনী বিস্তারিত জানবো। শেষ পর্যন্ত পড়ুন । সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, ভারতের এত বড় জায়গা থাকতে হঠাৎ কেরালার এক প্রান্তের মাছ ধরার গ...

বোহাগ বিহু অসমীয়া সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন।

ছবি
নমস্কার। সবাইকে জানাই বোহাগ বিহু এবং অসমীয়া নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। "অ’ হেপাহর বোহাগ, অ’ চেনেহর বোহাগ..." অর্থাৎ, বোহাগ হলো আমাদের আকাঙ্ক্ষার, বোহাগ আমাদের ভালোবাসার। যখন বসন্তের মাতাল হাওয়া এসে ধরণীকে ছুঁয়ে যায় যখন গাছে গাছে নতুন পাতা গজায় আর কপৌ ফুল (অর্কিড) ফুটে ওঠে, ঠিক তখনই অসমীয়া জাতির জীবনে নেমে আসে এক মহা আনন্দের জোয়ার। সেই আনন্দের নাম— বোহাগ বিহু বা রঙালি বিহু। বিহু শুধু একটি উৎসব নয়। বিহু হলো অসমীয়া মানুষের হৃদস্পন্দন তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেরুদণ্ড। ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটিতে বেড়ে ওঠা এই জাতির সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মপরিচয়ের অপর নাম বিহু। আজ এই ব্লগে আমরা পড়ে দেখব সেই সবুজ প্রান্তরে, যেখানে ঢোলের আওয়াজ আর পেঁপার সুরে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। আমরা জানব এই বোহাগ বিহুর ইতিহাস, এর সাতটি বিশেষ দিন এবং এর পেছনের গভীর সামাজিক তাৎপর্য। বোহাগ বিহু মূলত একটি কৃষিভিত্তিক উৎসব। আসামের প্রধান জীবিকা কৃষি, আর এই কৃষিচক্রের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বিহুর তিনটি রূপ— বোহাগ বিহু, কাতি বিহু এবং মাঘ বিহু। এর মধ্যে বোহাগ বা রঙালি বিহু হলো সবচেয়ে দীর্ঘ এবং জ...

রমগঙ্গা প্রকল্প ভারতের এক জলপ্রকৌশল বিস্ময়।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা।আজকের ভিডিওতে আমরা ভারতের এমন একটি প্রকৌশলগত বিস্ময় এবং জলসম্পদ ব্যবস্থাপনার এক অনন্য নিদর্শন নিয়ে কথা বলব যা উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি রামগঙ্গা বহুমুখী নদী উপত্যকা প্রকল্প সম্পর্কে। গঙ্গা নদীর অন্যতম প্রধান উপনদী হলো রামগঙ্গা। হিমালয়ের কুমাওন পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে এই নদী যখন সমভূমির দিকে ধেয়ে আসে তখন বর্ষাকালে এর রূপ হয়ে ওঠে ভয়ংকর। একসময় এই নদী উত্তরপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যার তাণ্ডব চালাত আবার খরা মরসুমে জলের অভাবে হাহাকার পড়ে যেত চাষের জমিতে। এই বন্যা নিয়ন্ত্রণ,সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের এক যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে জন্ম নেয় ‘রামগঙ্গা প্রকল্প’। আজকের এই ব্লগে আমরা বিস্তারিত জানব এই প্রকল্পের ইতিহাস এর ভৌগোলিক অবস্থান প্রকৌশলগত বৈশিষ্ট্য, এবং কীভাবে এটি ভারতের কৃষি ও অর্থনীতিতে এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। চলুন, শুরু করা যাক। প্রকল্পটি সম্পর্কে গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের রামগঙ্গা নদীটিকে একটু চিনে নেওয়া দরকার। উত্তরাখণ্ডের পৌরি গাড়ওয়াল জেলার দুধাতোলি পাহাড়ের প্রায় ২,৮১০ মিটার উচ্চতা থেকে এই ন...

কী ভাবে তৈরি ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ - আধুনিক ভারতের মন্দির ।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা । আজ আমরা এমন একটি স্থাপত্য এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিস্ময় নিয়ে কথা বলব যাকে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু "আধুনিক ভারতের মন্দির" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। হ্যাঁ আমি কথা বলছি 'ভাকরা নাঙ্গাল বাঁধ' সম্পর্কে। এটি কেবল কংক্রিটের একটি বিশাল দেয়াল নয় এটি স্বাধীন ভারতের আত্মনির্ভরতা এবং শক্তির প্রতীক। যখন ভারত স্বাধীন হয়েছিল তখন আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল খাদ্য ও বিদ্যুতের অভাব। সেই অন্ধকার সময়ে এই প্রজেক্টটি ভারতের ভাগ্য বদলে দিয়েছিল। আজকের ভিডিওতে আমরা জানব কীভাবে শতদ্রু নদীর হিংস্র স্রোতকে আটকে এই বিশাল বাঁধ তৈরি করা হলো এর পেছনের ইতিহাস কী এবং এটি কীভাবে পাঞ্জাব হরিয়ানা ও রাজস্থানকে ভারতের শস্যভাণ্ডারে পরিণত করল। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন কারণ এর নির্মাণকাজের রোমাঞ্চকর ইতিহাস আপনাকে অবাক করবে। মূল ইতিহাসে যাওয়ার আগে চলুন জেনে নিই এই প্রজেক্টটি ঠিক কোথায় অবস্থিত। অনেকেই মনে করেন ভাকরা এবং নাঙ্গাল একই বাঁধ কিন্তু আসলে এটি একটি মাল্টিপারপাস প্রজেক্টের অধীনে তৈরি দুটি আলাদা বাঁধ।  ভাকরা বাঁধ: এটি হিমাচল প্রদেশের বিলাসপুর জেলায় শতদ্রু ব...

বিয়াস প্রজেক্ট (BEAS) কী।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা।আপনারা কি কখনো ভেবে দেখেছেন, ভারতের পাঞ্জাব হরিয়ানা এবং রাজস্থানের মতো রাজ্যগুলোর সবুজ শস্যক্ষেত যেখানে আজ কোটি কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে সেগুলো একসময় কতটা শুষ্ক ছিল।ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের এই বিশাল পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একটি অলৌকিক প্রকৌশল বা ইঞ্জিনিয়ারিং মার্ভেল। হ্যাঁ, আজ আমরা কথা বলছি ভারতের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ বহুমুখী নদী উপত্যকা পরিকল্পনা— বিয়াস প্রজেক্ট সম্পর্কে। সিন্ধু নদ অববাহিকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এই বিয়াস বা বিপাশা নদী। এই নদীর জলকে নিয়ন্ত্রণ করে কীভাবে তিনটি রাজ্যের ভাগ্য বদলে দেওয়া হয়েছিল  কীভাবে মরুভূমিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল জল আর কীভাবে উৎপাদিত হচ্ছে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ— আজ এই ব্লগে আমরা বিয়াস প্রজেক্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইতিহাস এবং এর ভেতরের গল্প বিস্তারিত জানবো। ব্লগ টি সম্পূর্ণ পড়ার অনুরোধ রইলো কারণ আজকের ব্লগ টি তথ্য এবং জ্ঞানে ভরপুর হতে চলেছে। বন্ধুরা, এই প্রজেক্টের গুরুত্ব বুঝতে হলে আমাদের একটু ইতিহাসে ফিরে যেতে হবে। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত ও পাকিস্তান বিভক্ত হয় তখন সিন্ধু ...

তিহার জেল থেকে চার্লস শোভরাজের পলায়ন ইতিহাসের সবচেয়ে চতুর জেলব্রেক।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আজ আপনাদের এমন এক অবিশ্বাস্য সত্য ঘটনা শোনাব যা শুনলে কোনো হলিউড বা বলিউড ক্রাইম থ্রিলারের চিত্রনাট্যও নস্যি মনে হবে। কল্পনা করুন একটি দেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত জেল—যেখানে রয়েছে সিসিটিভি, সশস্ত্র প্রহরী, আর একের পর এক লোহার দরজা। আর সেই জেলের ভেতর বসেই একজন কয়েদি জেলের সমস্ত রক্ষী এমনকি খোদ জেলারকেও মাদক খাইয়ে অচেতন করে দিল তারপর প্রধান ফটক দিয়ে হেঁটে রাজকীয় কায়দায় পালিয়ে গেল। কোনো দেয়াল টপকানো নয় কোনো সুড়ঙ্গ খোঁড়া নয়—সরাসরি সদর দরজা দিয়ে। হ্যাঁ, আমি কথা বলছি ১৯৮৬ সালের ১৬ই মার্চের সেই কুখ্যাত ঘটনার। স্থান দিল্লির তিহার জেল। আর মূল খলনায়ক। আন্তর্জাতিক অপরাধ দুনিয়ার অন্যতম চতুর, সম্মোহনী শক্তির অধিকারী এবং নিষ্ঠুর সিরিয়াল কিলার—চার্লস শোভরাজ যাকে দুনিয়া চেনে 'দ্য সার্পেন্ট' বা 'সাপ' নামে। আজ আমরা জানবো কীভাবে চার্লস শোভরাজ তিহার জেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাসের অন্যতম দুঃসাহসিক জেলব্রেক ঘটিয়েছিল। ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের একটু জেনে নেওয়া দরকার  এই চার্লস শোভরাজ আসলে কে ছিল। কেন তাকে 'দ্য সার্পেন্ট' বলা হতো। চার্লসে...

মাস্টারমাইন্ডদের পতন – সুকান্ত ও চার্লির সোনার দোকান লুঠ (১৯৯০)।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। একটা নিখুঁত অপরাধের পরিকল্পনা করতে ঠিক কতটা সময় লাগে।কয়েক সপ্তাহ? কয়েক মাস? নাকি কয়েক বছর? আমরা সিনেমায় দেখেছি কীভাবে নিখুঁত ছক কষে বড় বড় ব্যাংক বা সোনার দোকান লুঠ করা হয়। কিন্তু আজ আপনাদের সামনে যে বাস্তব ঘটনাটি তুলে ধরব তা কোনো বলিউড বা হলিউড সিনেমার চেয়ে কম নয়। আজ আমরা কথা বলব সুকান্ত কদম এবং চার্লি গাং-এর সেই কুখ্যাত সোনার দোকান লুঠের ঘটনা নিয়ে। আইন-শৃঙ্খলার চোখে ধুলো দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কীভাবে এই দুজন একটা গোটা সোনার দোকান ফাঁকা করে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করেছিল আর কীভাবে শেষ পর্যন্ত তাদের সেই অহংকার ধুলোয় মিশে গেল—আজকের ভিডিওতে আমরা তার চুলচেরা বিশ্লেষণ করব। যদি আপনি ক্রাইম থ্রিলার ভালোবাসেন তবে আজকের এই ব্লগ টি আপনার শরীরের রক্ত হিম করে দেবে। শেষ পর্যন্ত পড়ুন কারণ গল্পের শেষ টুইস্টটা আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ঘটনার গভীরে যাওয়ার আগে আমাদের চেনা দরকার এই ঘটনার মূল দুই মাথাকে—সুকান্ত কদম এবং চার্লি গাং। সুকান্ত কদম আপাতদৃষ্টিতে শান্ত ঠাণ্ডা মাথার একজন মানুষ। কিন্তু এই শান্ত মাথার আড়ালেই লুকিয়ে ছিল এক অপরাধী মস্তিষ্ক। সুকান্ত ছিল ...

ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসাহসিক ডাকাতি – চেটপট জুয়েলারি কেস।

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। কেমন হবে যদি আপনি জানতে পারেন সিনেমার পর্দায় আমরা যে নিখুঁত এবং অবিশ্বাস্য ডাকাতির দৃশ্যগুলো দেখি তা আসলে বাস্তব জীবনেও ঘটে।যেখানে কোনো রক্তপাত হয় না কোনো গুলির আওয়াজ হয় না অথচ চোখের পলকে কোটি কোটি টাকার সোনা আর হিরে হাওয়া হয়ে যায়। হ্যাঁ, আজ আমরা কথা বলছি ভারতের অপরাধ ইতিহাসের অন্যতম এক দুঃসাহসিক এবং চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা নিয়ে—'চেটপট জুয়েলারি ডাকাতি'। চেন্নাইয়ের একটি অত্যন্ত ব্যস্ত এবং অভিজাত এলাকা হলো চেটপট। দিনটি আর পাঁচটা দিনের মতোই সাধারণ ছিল। রাস্তাঘাটে চেনা ব্যস্ততা, দোকানপাটে ক্রেতাদের আনাগোনা। কেউ ভাবতেও পারেনি যে এই ব্যস্ততার আড়ালে একদল অপরাধী এমন এক নিখুঁত ব্লু-প্রিন্ট বা পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে যা পুরো দেশের পুলিশ প্রশাসনকে নাড়িয়ে দেবে। আজকের এই ব্লগে আমরা একদম গোড়া থেকে জানবো—কীভাবে এই ডাকাতির ছক কষা হয়েছিল। কারা ছিল এর মাস্টারমাইন্ড। কীভাবে তারা নিরাপত্তার সমস্ত স্তরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভেতরে ঢুকল।এবং সবচেয়ে বড় কথা, পুলিশ কীভাবে এক অদৃশ্য সুতোর খেই ধরে এই অপরাধীদের ডেরায় পৌঁছাল। শেষ পর্যন্ত ব্লগটি পড়ুন কারণ এই বাস্তব ঘটনার মোড় যেকো...

লুধিয়ানা ব্যাংক ডাকাতি ভারতের ইতিহাসের এক রোমহর্ষক ও রহস্যময় অধ্যায় ।

ছবি
১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮৭। ঘড়িতে তখন সকাল ঠিক ৯টা ৪৫ মিনিট। পাঞ্জাবের লুধিয়ানার শিল্পনগরী সবেমাত্র জেগে উঠছে। শীতের সকালের কুয়াশা কেটে চারপাশটা তখনো পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। ঠিক এই সময়ে লুধিয়ানার মিলার গঞ্জ এলাকায় অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান শাখায় প্রতিদিনের মতোই সাধারণ মানুষ এবং ব্যাংক কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। কেউ জানতেন না আর মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই ব্যাংকের ভেতরে এমন কিছু ঘটতে চলেছে যা শুধু পাঞ্জাব বা ভারতকে নয় পুরো বিশ্বকে চমকে দেবে। এটি কোনো সাধারণ চুরি বা পকেটমারি ছিল না। এটি ছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ব্যাংক ডাকাতি। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কোনো রকম রক্তপাত না ঘটিয়ে একটিও গুলি না চালিয়ে একদল সশস্ত্র মানুষ ব্যাংক থেকে গায়েব করে দিয়েছিল ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। ১৯৮৭ সালের হিসেবে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা আজকের দিনে দাঁড়িয়ে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকার সমান। কিন্তু কারা ছিল এই মাস্টারমাইন্ড। কীভাবে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে তারা এই অবিশ্বাস্য অপারেশন সফল করেছিল। আর কেনই বা এই ডাকাতির পেছনে লুকিয়ে ছিল ভারতের একটি বড় রাজনৈতিক এবং বিচ্ছিন্নতাবা...

মুম্বাইয়ের অপেরা হাউস সেন্ট্রাল ব্যাংক স্ক্যাম!

ছবি
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা তো অনেক ধরণের ব্যাংক ডাকাতির কথা শুনেছেন। হলিউড বা বলিউডের সিনেমায় দেখা যায়—একদল সশস্ত্র ডাকাত মুখে মুখোশ পরে হাতে বন্দুক নিয়ে ব্যাংকে ঢুকলো চিৎকার করে সবাইকে হাত ওপরে তুলতে বললো তারপর লকার ভেঙে কোটি কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিল। চারদিকে সাইরেন বাজছে পুলিশ তাড়া করছে দেখতে বেশ থ্রিলিং লাগে তাই না? কিন্তু আজ আমি আপনাদের এমন এক ব্যাংক ডাকাতির গল্প শোনাবো যেখানে কোনো বন্দুক চলেনি কোনো মারামারি হয়নি এমনকি একটা চিৎকার পর্যন্ত কেউ করেনি অথচ ডাকাত দল ভরদুপুরে সবার চোখের সামনে দিয়ে কোটি কোটি টাকার সোনা আর নগদ টাকা নিয়ে হেঁটে বেরিয়ে গেল। আর সবচেয়ে মজার বিষয় কী জানেন?  ব্যাংক ম্যানেজার নিজে হেসিমুখে সেই ডাকাতদের গাড়ির দরজা খুলে দিয়েছিলেন এবং বিদায় জানানোর সময় বলেছিলেন—থ্যাংক ইউ স্যার, আবার আসবেন হ্যাঁ আপনারা ঠিকই শুনছেন। আমি কথা বলছি ১৯৮৭ সালের ১৯শে মার্চের সেই বিখ্যাত অপেরা হাউস সেন্ট্রাল ব্যাংক ডাকাতি নিয়ে। ভারতের ক্রাইম হিস্ট্রিতে এটিকে বলা হয় সবচেয়ে সোফিস্টিকেটেড বা চতুর অপরাধ। যে ঘটনার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বলিউডে অক্ষয় কুমারের বিখ্যাত সিনেমা স্পেশাল ২৬...

১৯ শতকে ভারতের যোগাযোগ ও আবাস প্রকল্প কেমন ছিল।

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাবো এমন এক শতাব্দীতে যা আমাদের চেনা ভারতকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। ১৯ শতক—অর্থাৎ ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল। এই ১০০ বছরে ভারতের বুকে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটেছিল যা আজকের আধুনিক ভারতের মেরুদণ্ড। একবার ভাবুন তো ১৮০০ সালের শুরুর দিকের ভারতের কথা। এক শহর থেকে অন্য শহরে যেতে সময় লাগত weeks বা সপ্তাহ ।যাতায়াতের মাধ্যম ছিল গরুর গাড়ি পালকি বা ঘোড়া। রাস্তাঘাট বলতে ছিল কাঁচা মাটির পথ যা বর্ষায় কাদায় ডুবে যেত। চিঠিপত্র আদান-প্রদান ছিল এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। কিন্তু ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এসে এই পুরো দৃশ্যপট বদলে যেতে শুরু করে। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ক্রাউন তাদের নিজস্ব অর্থনৈতিক শোষণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ভারতের যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তন আনে। যাকে তারা বলেছিল "আধুনিকীকরণ" তা আসলে ছিল ভারতীয় সম্পদের দ্রুত নিষ্কাশন এবং নিয়ন্ত্রণের এক বিশাল নীল নকশা। আজ আমরা এই ব্লগে মাধ্যমে জানবো কীভাবে ১৯ শতকে ভারতের যোগাযোগ ও আবাস প্রকল্পের রূপান্তর ঘটেছিল। যোগাযোগ ব্যবস্থার কথা বললে ১৯ শতকের সবচেয়ে বড় বিপ্লব ছিল রেলপথ...

১৯ শতকে ভারতে বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো কেমন ছিল ?

ছবি
নমস্কার। আজ আমরা ফিরে যাবো ইতিহাসের এমন এক শতাব্দীতে যা আধুনিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল। ১৯ শতক—অর্থাৎ ১৮০১ থেকে ১৯০০ সাল। এই সময়কালটি ভারতের ইতিহাসে কেবল রাজনৈতিক দাসত্ব বা অর্থনৈতিক শোষণের গল্প নয় এটি ছিল এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত রূপান্তরের যুগ। একদিকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এবং পরবর্তীতে ব্রিটিশ ক্রাউন তাদের ঔপনিবেশিক স্বার্থে ভারতকে ব্যবহার করছিল। অন্যদিকে এই প্রয়োজনেই ভারতে প্রবেশ করছিল আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা উপাদান। কিন্তু প্রশ্ন হলো এই পরিকাঠামো কি কেবলই ব্রিটিশদের উপকারের জন্য ছিল? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে ছিল আধুনিক ভারতের বৈজ্ঞানিক পুনর্জাগরণের বীজ? আজ আমরা আলোচনা করব কীভাবে ১৯ শতকে ভারতে গড়ে উঠেছিল বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো। যেকোনো দেশ শাসন বা পরিচালনা করতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন সেই দেশের ভূগোলকে জানা। ব্রিটিশরা এই কাজটি শুরু করেছিল অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে। ১৯ শতকের শুরুতে ১৮০২ সালে উইলিয়াম ল্যাম্বটন এবং পরবর্তীতে জর্জ এভারেস্টের নেতৃত্বে শুরু হয় 'গ্রেট ট্রিগোনোমেট্রিক্যাল সার্ভে' (Great Trigonometrical Survey)। এট...